Tuesday, August 25, 2026
Home "ধারাবাহিক গল্প """"আমার প্রিয় তুমি আমার প্রিয় তুমি #মেহজাবিন তানিয়া পর্ব-২৩

আমার প্রিয় তুমি #মেহজাবিন তানিয়া পর্ব-২৩

0
3

#আমার প্রিয় তুমি
#মেহজাবিন তানিয়া
পর্ব-২৩

৪৫.

সকাল দশটা পনেরো সবাই টেবিলে বসছে নাস্তা কারার জন্য কিন্তু তানভি আর আজিজ হাওলাদ এখনো নামেনি উপর থেকে ।

সেই যে চাচি শাশুড়ি তাহুর হাতে তরকারির পেয়ালা ধরিয়ে দিয়েছিলো তারপর আর কোনো কাজের কাছে ঘেঁসতে দেয়নি তানভির মা।

সেই থেকে অসহায় মতো এক কোনে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে তাহু । নিজের কাছে নিজেকে উৎকৃষ্ট জীব মনে হচ্ছে এখন তাহুর । এমন তো হবার কথা ছিলো না মন চাচ্ছে দৌড়ে এখান থেকে চলে যেতে । ভাই কেন বিয়ে দিলো পারতো না নিজেদের কাছে রাখতে । এসব চিন্তা করতে করতে তাহুর চোখে পানি এসে যায় ।

দূর থেকে চাচি শাশুড়ি তাহুকে পরখ করে পাশে বড় জা-কে বলে আপা মেয়েটার সাথে ফ্রি হও না । দেখো মনে হইতেছে কান্না করতেছে ।
ছোটোর কথা শুনে তাকিয়ে দেখে সত্যি মাথা নিচু করে কান্না করতেছে ।
উফফ এই ছোট মেয়ে বউ হয়ে আসলে আরেক জ্বালা একটু কিছু হলেই শুরু করে দেয় কান্না ।
বলি কেউ এখানে দাঁড়িয়ে থেকে চোখের পানি খরচ না করে খাবার টেবিলটা যেনো গুছায় ।

কথাটা শুনে তারাতাড়ি চোখের পানি মুছে গিয়ে টেবিল গুছানোতে লেগে গেলো।

আপা কথাটা তো ভালো করেও বলতে পারতা।

ছোট তুই চুপ থাক । এই মেয়েকে ভালো করে পরখ করে তারপর আমার ছেলের জন্য মেনে নিব । যখন দেশে গেলাম তখন যদি জানতাম তাহলে আমি নিজে গিয়ে এই মেয়েকে আমার ছেলের বউ করে নিয়ে আসতাম । কিন্তু এখন ওর সাথে ওর অতিত জরিয়ে আছে । যদি অন্য জনকে মনে রেখে পরিবারের চাপে পড়ে বিয়ে করে থাকে তাহলে তো দ্বিতীয় বারও যে ভেগে যাবে না তার নিশ্চয়তা কি?

তোমার কথা ঠিক আছে আপা কিন্তু আমার কেন যেনো মনে হয় মেয়েটি এই কাজ করে নাই।

তোর কথাই যেনো হয় । তাহলে এই মেয়েকে আমি মাথায় তুলে রাখবো ।
___________________________

সকালের টেবিলে খাবারের সমারোহ সবার পছন্দসই নাস্তা তৈরি করা হয়েছে ।
একে একে সবাই টেবিলে যোগ দিলো।
তাহু টেবিল গুছিয়ে পাশেই দাঁড়ানো ছিলো । আজিজ হাওলাদার আসলে তাহুকে নিজের পাশের চেয়ারে ডেকে বসান তখনি উপর থেকে তানভি নিচে নেমে আসে তাহুর পাশের চেয়ারে বসে পরে।

দাদু ভাই আমি আজ চলে যাবো কিন্তু যাবার আগে আমার কিছু কথা আছে ,আশা করি এখানে উপস্থিত সবাই আমার কথা গুলো মূল্যায়ন করবে।

দাদু এতো তাড়াতাড়ি চলে যাবে আর কটা দিন থেকে যাও ।

না দাদু ভাই আমার কাজ আছে একদিন আসবো সময় করে কিছু দিন থেকে যাবো তোমাদের সাথে ।

দেখো তাহরিমা আর তাজরিয়ান দাদু ভাইয়ের বিয়ে নিয়ে সবাই প্রথমে নারাজ হলেও এখন সবাই খুশি জানি কিন্তু বড় বউ মা এখনো মন থেকে মেনে নিতে পারো নাই । দেখ তাহরিমা কোনো খারাপ মেয়ে না আমি ওরে ছোট থেকে বড় হতে দেখেছি । একটু চঞ্চল কিন্তু মনের দিক থেকে ভালো । আর আমি অবশ্যই আমার ছেলেদের জন্য কোনো অযোগ্য পাত্রি আনি নাই । আমি মন করি তারা যথেষ্ট বুদ্ধিমান সম্পূর্ণ । অবশ্যই তোমরা সব কিছু যাচাই-বাছাই করেই সিদ্ধান্ত নিবে । সবসময় যেমন আমি আমার ছেলে বউদের নিয়ে গর্ব করি আশা করি এর ধারাবাহিকতা সামনেও বজায় থাকবে ।
আর আমার ছেলেদেরও বলছি আমার নাত-বউর যদি কোনো অসম্মান হয় তাহলে আমি কাউকে ছেরে দিবে না । মেয়েটা মাত্রই বাবাকে হারিয়েছে আশা করি ওর সেই অভাবটা পূরণ করার চেষ্টা করবে । কথা গুলো বলে তানভির দিকে তাকালেন তানভিও ভরসামূলক হাসি দিলো যার অর্থ সে আছে তার নাত-বউয়ের পাশে।

৪৬.

তাহরিমা মেঘকে জরিয়ে ধরে বসে আছে আর কিছুক্ষন পরপর শরীর কেঁপে কেঁপে উঠছে । মেঘও বোনকে থামানো চেষ্টা করছে ।

সকালে নাস্তার ঘন্টা দুয়েক পরে দাদু চলে যায় গ্ৰামে ।যাওয়ার আগে তাহুকে তিনি রুমে ডেকে নিয়ে গিয়ে অনেক কিছু বুঝিয়ে বলেন।

তাহরিমা আমি তোমাকে কিছু কথা বলি মন দিয়ে শুনবে এবং তা পালন করার চেষ্টা করবে।

জি দাদু ।

দেখো আমি জানি তোমার একটু কষ্ট হবে মানিয়ে নিতে । আর আমি মনে করি বাংলাদেশের ৯৯% মেয়েদেরই প্রথম প্রথম মানিয়ে নিতে কষ্ট হয়। আবার যাদের ভাগ্য খারাপ তারা হয়তো ডির্ভোস পর্যন্ত এগিয়ে যায়।

কিন্তু আমি আমার পরিবার নিয়ে গর্ব করে বলতে পারি আমার পরিবার ঐ ১% মধ্যেই একটা পরিবার । একটু মন থেকে এদের সাথে মিশে দেখো স্নেহ-ভালোবাসা ভরিয়ে দিবে।
আমি জানি অন্য সবাই এখনি ঠিক হয়ে গেছে শুধু তোমার শাশুড়ি একটু অভিমান করে আছে তুমি একটু কাছে গিয়ে আপন করার চেষ্টা করে দেখো দেখবে বেশিদিন লাগবে না বড় বউমার রাগ ভাঙাতে। বউ মার মনে একটা ভয় রাকিবকে নিয়ে আর তোমার দায়িত্ব সে ভয় দূর করার। কি বলছি বুঝতে পারছো।

জি দাদু দোয়া করবেন আমি যেন সবার মন জয় করতে পারি ।

যাক তুমি যেটা বলছো এতেই বুঝা যায় তুমি পারবে।তো ভালোভাবে থেকো । আর আমি মাঝে মাঝে আসবো তোমরাও যাবে কিন্তু সেটা একটু সময় নিয়ে আমি চাই না এখন গ্ৰামে গিয়ে আবার কোন ঝামেলা হোক।

_________________________

আরে আর কত কান্না করবি এবার তো থাম তানভি তো ঠিকই বলে তোকে ছিঁচকাদুনে।

কথাটা শুনে তাহু তার ভাই থেকে তারাতাড়ি সরে বসে।
তোমরা সবাই আমার কান্নাটাই দেখো কিন্তু কেউ কষ্টটা দেখো না।

এই দেখি এই ছোট মনে এতো দুঃখ কিসের শুনি বাবার জন্য যদি কষ্ট হয় তাহলে বলবো বাবর হায়াত এই টুকুই আমাদের বাবা ভালো মানুষ ছিলেন আল্লাহ অবশ্যই তাকে উপরেও ভালো রেখেছে । আমরা শুধু তার জন্য এখন দোয়া করতে পারি কিন্তু বাকি সব ঠিক আছে।
আমি ঠিক আছি মা-দাদি ঠিক আছে ।
আমি মনে করি তুইও ভালো আছিস। তোর শশুর বাড়ীর সবাই ভালো একটু আগে কথা হয়েছে । সবাই খুব ভালো মনের মানুষ। আমার তো ভয় ছিলো এভাবে বিয়ে মেনে নিবে কি না কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ সবাই খুশি মনে মেনে নিতে এটাই তো বেশি।
সবার সাথে মিলেমিশে থাকবি , দেখবি সবাই তোকে আপন করে নিবে।

দুই ভাইবোনের খুনসুটি দূর থেকে দেখছিলো এতোক্ষন তানভিরের মা ।
একটু আগে মেঘ আসছে বোনকে দেখতে ,বোনের বিয়ে তো আর স্বাভাবিক ভাবে হয় নাই তাই চিন্তা হচ্ছিলো তাই তাহুর মা ছেলেকে বিভিন্ন তত্ত্ব দিয়ে ছেলেকে পাঠিয়ে দিয়েছেন স্বামী বিয়োগের মাঝেও মনকে শক্ত করে।
তাহু আর মেঘের কথা গুলো শুনে তানভিরের মার কাছে সব কিছু ভালোই ঠেকছে । মনে হয় না মেয়েটা খারাপ হবে তবে তবুও যেনো মনের মধ্যে একটা কিন্তু রয়েই যায় । হয় তো আরো একটু সময় লাগবে এই কিন্তুটা দূর হতে।

চলবে………….

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here