#আমার প্রিয় তুমি
#মেহজাবিন তানিয়া
পর্ব-২৫
৪৯.
রাতে খাবার খাওয়ার সময় অনন্যাকে যখন বলা হয় তানভি বিয়ে করেছে এবং তাহুই তানভিরের বউ তখন কিছুতেই বিশ্বাস করতে চায় না ।
কিন্তু যখন দেখলো দুজন এক সাথে ড্রইং রুম থেকে এসে টেবিলে কাছে দাঁড়ায় তাহুর হাতে তানভিরের ওয়ালেট,ঘড়ি, মোবাইল আর কোট তখনই যেয়ে কিছুটা বিশ্বাস করে আর পুরোপুরি সিয়োর হয় তানভির যখন তার মাকে বলে আমি ফ্রেস হয়ে আসি তারপর খাবো বলে উপরে উঠতে উঠতে তাহুকে ডেকে উঠে উপরে আসো।
অনন্যার যেনো পুরো দুনিয়া ঘুরে গেলো এসব দেখে । তাজরিয়ান কি করে এই মেয়েকে বিয়ে করতে পারে ।আমি কখন এই মেয়েকে আমার তাজরিয়ানে পাশে সহ্য করতে পারবো না। এই গ্ৰামে গেঁয়ো ভূতকে আমি মেরে ফেলবো । তাজরিয়ান শুধু আমার আমি এই গেঁয়ো ভূতের কখনো হতে দিবো না। মনে মনে বলে ফুঁসে উঠলো অনন্যা।
অনন্যা আপু তোমার প্লেনিং শেষ হলে খেতে বসো খাবার ঠান্ডা হইতেছে ।
রিমি তুমি অনেক বেশি কথা বলো । আচ্ছা এই গেঁয়ো ভূতকে বলে তাকায় রিমির দিকে , রিমির চেহারা দেখে আবার বলে উঠে না মানে তাজরিয়ান হঠাৎ এই মেয়েকে কি করে বিয়ে করলো । ওদের মধ্যে কি প্রেম ছিলো ।
তা তো জানি না আপু প্রেম ছিলো কি না কিন্তু ভাবির গ্ৰামে একটা সমস্যা হইছিলো তাই ভাইয়া সমস্যা সমাধান করার জন্য বিয়ে করে ফেলছে।
ওহহ সমস্যা হইছিলো অন্য কিছু না তার মানে তাজরিয়ান বেবি নিজের ইচ্ছায় বিয়ে করেনি ।
নাহ ভাইয়া নিজেই বিয়ের কথা রেখেছে ভাবির পরিবারের কাছে , যখন ভাবিকে গ্ৰামের মানুষ হেনস্তা করে।
তার মানে এই মেয়েকে মেয়ে বাঁচানোর জন্য বিয়ে করেছে কোনো প্রেম-ট্রেম নেই এদের মধ্যে তাহলে তো আমার রাস্তা থেকে সরানো কোন অসুবিধা হবে না এই মেয়েকে মনে মনে বলে উঠলো।
তা রিমি কি সমস্যা হইছিলো গ্ৰামে এই মেয়ের ?
আর বলো না আপু গ্ৰামের রাকিব নাকি কি নামের একটা ছেলে যেনো ভাবিকে তুলে নিয়ে গেছিলো , তারপর ভাবির নামে গ্ৰামে ঐ ছেলের বাবা নাকি বদনাম রটিয়েছে আর গ্ৰামের কিছু মানুষও নাকি ভাবিকে অনেক নির্যাতন করেছে । এমনকি ভাবির বাবাও স্টোক করে মারা গেছে এইসব দেখে। কিন্তু আমি জানি ভাবি এসব কিছু করেনি দাদু সব বলেছে আমাদের আমি তো খুব খুশি ভাইয়া ভাবিকে বিয়ে করাতে।
হুহহ খুশি এই খুশি বেশি থাকবে না এই মেয়েকে আমি এই বাসা বের করেই ছাড়বো মনে মনে বলে উঠলো।
ওহহ তাহলে এই কাহিনী , তোমরা এতো সিয়োর দিয়ে কিভাবে বলো যে ঐ মেয়ে নির্দোষ, দেখো গিয়ে ঐ ছেলের সাথে রাত কাটিয়ে আসছে এখন গ্ৰামের মানুষ জেনে যাওয়াতে তোমার ভাইয়ের গলায় ঝুলে পড়েছে।
গ্ৰামের এইসব মেয়েদের চিনা আছে যেই দেখেছে শহরের ধনী পরিবারের ছেলে ঐমনেই পিছে পড়ে গেছে। তোমরা নেহাতই ভালো মানুষ তাই তোমাদের চোখে ভালো দেখছো।
আপু দেখো এরম কিছুই না মেহু ভাবি আসলেই অনেক ভালো তুমি উল্টা পাল্টা কথা বলো না তো আর ভাইয়া শুনলে তোমারে আস্তো রাখবে না। তুমি তোমার খাবার খাও।
____________________
সবার রাতের খাবার শেষ হয়ে গেছে । কিন্তু তানভির এখনো টেবিলে বসে আছে কারন তাহুর এখনো খাওয়া শেষ হয় নাই।
তাহু তোমার খাওয়া-দাওয়া এতো অনিহা কেন , এতো কম খেলে মানুষ বাঁচে কি করে।
আমি আর পারবো না আর খেলে বমি করে দিবো মিনমিন করে বলে উঠলো ।
তাহুর অবস্থা দেখে আচ্ছা ঠিক আছে আর খেতে হবে না বলে উঠে চলে গেলো উপরে তানভি।
এতোক্ষণে যেনো হাফ ছেড়ে বাঁচলো তাহু তারাতাড়ি উঠে গেলো টেবিল থেকে এবং শাশুড়ি আর চাচী শাশুড়ির সাথে হাত মিলালো কাজে। যদিও চাচি শাশুড়ি বলেছে তুমি উপরে যাও তানভির কি লাগে না লাগে দেখো গিয়ে তোমার কিছু করতে হবে না কিন্তু তানভিরের মা মুখ ফুটে কিছু বলেনি।
না চাচি মা আমি পারবো করতে দিন আমি টেবিল পরিষ্কার করি বলে কাজে লেগে গেলো।
অনন্যা টেবিলে বসে এতক্ষন এই সব কিছু পর্যবেক্ষন আর রাগে ফুঁসছে। এখনই মন চাচ্ছে গিয়ে এই গেঁয়ো ভূতকে গিয়ে খুন করে আসতে।
৫০.
তানভি নিজের রুমে খাটে বসে কিছু ফাইল দেখতেছিলো আর তখনি পাশে কেউ একজন এসে বসে।
তানভির না দেখেই বলতে লাগলো কি করছিলে এতোক্ষণ এতো দেরি হলো যে ।
পাশে বসা ব্যক্তি কথাটা শুনে যেন চাঁদ হাতে পেলো। সাথে সাথে তানভিকে জড়িয়ে ধরে ।
তানভি অবাক হয় তাহুতো কখনো এভাবে জড়িয়ে ধরার কথা না, যে মেয়েকে আমি জড়িয়ে ধরলেই মুচড়ামুচড়ি শুরু হয়ে যায় সে কিনা নিজের ইচ্ছায় জড়িয়ে ধরবে এটা কখনোই তাহু না। তাই বুকের উপর রাখা হাতটা ঘুড়িয়ে সামনে এনে ওর ফাইলের উপর ফেলে দিলো ।
ফাইলের উপর পরে থাকা অনন্যাকে দেখে রাগে চোখমুখে লাল আভা ফুটে ওঠে।
সাথে সাথে দাঁড়িয়ে পরে বসা থেকে হুংকার ছেরে বলে তোর এতো বড় সাহস আসে কই থেকে আমাকে জড়িয়ে ধরার । বলি নাই আমার আশেপাশে যেনো না দেখি।
অনন্যা উঠে আবার ধরতে আসলে চুলের মুঠি ধরে দুই গালে পরপর চারটা চর বসিয়ে দেয়।
__________
হঠাৎ উপরের সোরগোল শুনে সবাই ছুটে গেলো তানভির রুমের দিকে ।
তাহুও পিছু নেয় সবার । গিয়ে দেখে অনন্যা গালে হাত দিয়ে দাড়িয়ে আছে আর তানভির ওকে শাসিয়ে যাচ্ছে।
ফারদার আর একবার যদি আমার আসেপাশে দেখি খুন করে ফেলবো তোকে মনে যেনো থাকে।
অনন্যা আপু তোমার মতো বেহায়া টাইপের মেয়ে আমি একটাও দেখি নাই , মানুষ এতো নির্লজ্জ হয় কি করে । তুমি আমার বোন হও সেটা বলতেও আমার বমি আসে বলে উঠলো সাদ।
সবাই আসাতে অনন্যা আর কিছু বললো না চুপচাপ চলে গেলো । কিন্তু দরজার কাছে তাহুকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বলে গেলো দেখে নিবো । তাহু একবার চোখ তুলে তাকালো অনন্যার দিকে কিন্তু মুখে কিছু বললো না।
সবাই বুঝে গেছে এখানে কি হইছে। তাই আস্তে আস্তে সবাই চলে গেলো ।
রাহুল ধীর পায়ে রুমে ডুকে দেখে তানভি ওর দিকে এমন করে তাকিয়ে যেনো এখনোই মেরে দিবে।
আ-আমি কিচেনে কাজ করতে ছিলাম । কথা বলতে দেরি তানভিরের হাতে কাছে কাঁচের জগ ভাংতে দেরি নেই।
তা দেখে দুহাত পিছিয়ে যায় ভয়ে।
আর তানভির বেলকনিতে চলে যায়।
চলবে………
♥️♥️♥️





