Tuesday, August 25, 2026
Home "ধারাবাহিক গল্প """"আমার প্রিয় তুমি আমার_প্রিয়_তুমি #মেহজাবিন_তানিয়া পর্ব-২৭

আমার_প্রিয়_তুমি #মেহজাবিন_তানিয়া পর্ব-২৭

0
3

#আমার_প্রিয়_তুমি
#মেহজাবিন_তানিয়া
পর্ব-২৭

৫৩.

তাহু এখন শাশুড়ির রুমের দরজার কাছে দাঁড়িয়ে স্বামীর আদেশ পালন করছে কিন্তু কিভাবে ভিতরে যাবে তা নিয়ে দুটানায় ভুগছে ।

সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখে তানভি ওর বুকে মাথা দিয়ে ঘুমিয়ে আছে । ঘড়িতে তখন পাঁচটা চল্লিশ বাজে ।
এখন উঠে ফ্রেস না হলে নিচে যেতে দেরি হয়ে যাবে। আগের দিনও দেরিতে উঠেছিলো আজও যদি উঠে তাহলে বিষয়টা ভালো দেখায় না । তাই তানভিকে উঠানোর জন্য চাদরের নিচে হাত দিয়ে সরাতে যায়
কিন্তু হাত দিয়ে জেনো নিজেই বোকা বনে গেলো পরক্ষনে নিজের দিকেও খেয়াল করে দেখে একই অবস্থা । লজ্জায় সারা শরীর ঝেকে উঠে । তানভিকে যতই দূরে সরাতে যায় তানভির আরো গভীর ভাবে জড়িয়ে ধরে ।

উফফ ঘুমাতে দাও তো ঘুম হয় নাই আমার ।

আপনি ঘুমান আমাকে ছাড়েন।

ঘড়িতে তাকিয়ে দেখে – এখনো তো ছয়টাই বাজে নাই এতো তাড়াতাড়ি উঠে কি করবা বলেই মাথা উঠায়।

তাহু লজ্জায় মুখ অন্য দিকে সরিয়ে নেয়।

এই তুমি কি লজ্জা পাইতেছো কিন্তু আমি তো কিছু……আর বলতে পারলো না ,তাহুর দিকে তাকিয়ে বাঁকা হাসি দিলো এবং নিজেকে সহ তাহুর গলা পর্যন্ত চাদর দিয়ে ঢেকে নিলো।

চাদরের নিচে তানভির বেসামাল স্পর্স তাহুকে মাতাল করে তুলা জন্য যথেষ্ঠ ।
:
:
:
ভালোবাসার প্রহর কাটিয়ে এক সাথে গোসল করে বের হয় দুজন ।

তাহু রেডি হয়ে নেয় নিচে জাবার জন্য , তখন তানভি পরম আদরে স্ত্রীকে জড়িয়ে ধরে বলে ‘তাহু মাকে একটু সময় দিয়ো আমার মা কিন্তু কোনো দরজ্জাল শাশুড়ি না,একবার কাছে গিয়ে রাগ ভাঙাতে পারলে দেখবে মা তোমাকে চোখে হারাবে। এখন শুধু একটু রাগ করে আছে তুমি পাশে পাশে থাকলে , তার কথা শুনলে দেখবে এই রাগ একদিন গায়েব হয়ে গেছে।’ কি বলছি বুঝতে পারছো ।

জড়িয়ে ধরে তাহুও বললো হুম ।

_____________________

রুম থেকে অনেকক্ষন তানভির মা আর চোখে দেখছে তাহু একবার রুমে ঢুকতে চাচ্ছে তো আবার পিছিয়ে যাচ্ছে ।
তিনি মনে মনে হেসে উঠলেন ,এই মেয়ে আসলেই একটা বাচ্চা মেয়ে এতো ভয় পাওয়ার কি আছে।

কিন্তু মুখে গম্ভীর ভাব এনে বলেন ‘এখানে কোনো অপরাধ মূলক কাজ হচ্ছে না যে উঁকিঝুঁকি মেরে দেখতে হবে কিছু যদি বলার থাকে তাহলে যেনো ভিতরে এসে বলে।’

তাহু প্রথমে চমকে উঠলেও পরে নিজেকে ঠিক করে রুমে ভিতরে যায়।
গিয়েও কিছু বলতে পারলো না চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে এক কোনে।

এখানে নিশ্চয়ই দাঁড়িয়ে থাকার জন্য আসা হয় নাই ।

আ-আন্টি আসলে বলছিলাম কি…..আর বলতে দিলো না’এই মেয়ে আমি তোমার আন্টি লাগি যে আন্টি বলতেছো ।

তাহু একটু অবাকই হয় বলে না মানে ম-মা আপনি কি করতছিলেন?

কিছুক্ষণ তাহুর দিকে তাকিয়ে থেকে -আমি কি করছিলাম তা জানার জন্য আসছো।

তাহু কি করবে ভেবে পাচ্ছে না এসেও যেনো ফেঁসে গেছে । কিছু সময় আমতা আমতা করে হঠাৎ প্রচন্ড বেগে তানভির মাকে জড়িয়ে ধরে বসলো -প্লিজ মা আর রাগ করে থাকবেন না এবার মাফ করে দেন আপনার ছেলের কোনো দোষ নাই ,সব আমার জন্য হইছে । আপনি যদি বলেন তাহলে আজই ভাইয়াকে বলবো আমাকে নিয়ে যেতে ।

এই মেয়ে দেখি ছাড়ো আমাকে , দেখি আর একবার যদি ছেড়ে যাবার কথা বলো তাহলে আমার ছেলে কি করবে তা আমি জানি না আমি তোমাকে মেরে পা ভেঙ্গে ঘরে বসিয়ে রাখবো তখন দেখবো কোথায় যাও।
আমি রাগ করে নেই তোমার উপর আমার রাগ হচ্ছে আমার ছেলের উপর ও আমাকে বলে তো বিয়ে করতে পারতো , তোমাদের মধ্যে যে সম্পর্ক ছিলো সেটাও আমাকে আগে বলে নাই আজ সকালে অফিসে যাওয়ার আগে আমাকে বললো।
আমি যদি জানতাম আমার ছেলে এমন মিষ্টি একটা মেয়েকে পছন্দ করে রেখেছে তাহলে কবেই আমি বিয়ে করিয়ে নিয়ে আসতাম।
আর এতো দিন আন্টি কেনো বলছো আমি আন্টি হই ! তাই তোমার সাথে কথা বলতাম না ।

তাহুর খুশিতে কান্না করে দেয়।

থাক আর কাঁদতে হবে না । দেখো কত দেরি হয়ে গেলো রান্নার সময় হয়ে গেছে চলো দুই বউ – শাশুড়ি মিলে আজ দুপুরের রান্না করবো ।

মা আমি তো রান্না পাড়ি না।

তো কি হইছে আমি দেখিয়ে দিবো চলো ।

৫৪.

তানভি বাসায় আসছে , রিমি এমন ভাবে ফোন দিয়েছে যেনো বাসায় কোনো অঘটন ঘটে গেছে । কিন্তু বাসায় এসে দেখে পরিবেশ উৎসব মুখর । পুরো বাসা খাবারের গন্ধে মম করছে । তানভি এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখে কেউ নেই । একটু এগিয়ে চলতেই রান্না ঘর থেকে হাসির শব্দ শুনতে পায়ে সে দিকে এগিয়ে গিয়ে দেখে বাসার সবাই রান্না ঘরের ভিতর আর মা-বউ মিলে রান্না করছে । শাশুড়ি বলে দিচ্ছে আর বউ তা হাসি মুখে পালন করে যাচ্ছে । বাসার বাকি সবাই দর্শক হিসেবে রান্না ঘরের এখানে সেখানে বসে আছে মাঝেমাঝে বিভিন্ন কথা নিয়ে হেসে ফেটে পরছে।

তানভি রান্না ঘরের দরজায় দাঁড়িয়ে চোখ বড় বড় করে
এদের কান্ড দেখছে তবে মধ্যমনি হিসেবে মা আর বউকে দেখছে কি সুন্দর হেসে হেসে কথা বলছে তার মানে বউ তার বুঝানোটা কাজে লাগিয়েছে তবে আজই যে এই অসাধ্য সাধন করবে বুঝতে পাড়েনি । আগে জানলে বউয়ের মাথায় আগেই আইডিয়াটা ঢুকিয়ে দিত।
যাক অবশেষে যে বউ শাশুড়ি এক হইছে এটাই অনেক।

তানভি চাচিকে দুষ্টুমির সুরে বলে উঠলো – তা চাচিমা আম আর দুধ দেখি মিলে গেছে , মিলার সময় কাছে ছিলা বেশী ফাটে নাই তো আবার ।

কথাটা শুনে সবাই দরজার দিকে তাকালো । দেখে তানভি কথাটা বলে মা আর বউয়ের দিকে তাকিয়ে হাসছে ।

পাশ থেকে রিমি চিৎকার দিয়ে উঠলো , ও ভাইয়া তুমি আসছো আর একটু আগে আসলে একটা বিশাল ধামাকা দেখতে পারতা ।

দেখতে পারিনি তো কী হইছে সব থেকে বড় সীন তো দেখে নিলাম এখন বউ-শাশুড়ির মিলনমেলা । আর বিশাল কিছু তো আমি করবো তকে ফোনে কেমন করে কথা বলছিলি যেনো বাসায় কোনো অঘটন ঘটে গেছে।

ইসস আমি যদি ফোন না দিতাম তুমি কি এইসব দৃশ্য দেখতে পারতা বলো । তার জন্য তো আমাকে ধন্যবাদ দেয়া দরকার তোমার ।

আজ যে মিলনমেলা দেখছি যা দিলাম তকে ধন্যবাদ তুইও মনে রাখবি এই তাজরিয়ান তকে ধন্যবাদ দিছে।

ভাই ও সব বাদ আগে শুনো কি হইছে । ভাবি আর মা যখন নিচে আসে আমরা তো সবাই অবাক হই দুজনকে এক সাথে দেখে । আমাদের সাথে নিচে অনন্যা আপুও ছিলো কিন্তু সে যে এতো অবাক হবে আর এই অবাক হওয়ার কারনে সে আমাদের আরো অবাক করে দিবে সেটা তো ভাবতেই পারিনি।
ইসসস সেটা যদি দেখতে ।

এই এতো না পেঁচিয়ে বল কি হইছে আর না হলে বাদ দে এমনেও এই মেয়ের কথা শুনলে মাথা গরম হয়ে যায়।

আরে শুনো না মার সাথে ভাবির হেসে কথা বলা দেখে সবার সামনে ভাবিকে চর মারতে গেছিলো কিন্তু মা ধরে ফেলে আর চাচি গিয়ে দিছে দুটা চর লাগিয়ে ।
চাচি তো বলেই দিছে আজই ভায়ের সাথে কথা বলবো তোর বিয়ে ঠিক করার জন্য আর কখনো যেনো তকে এই বাসায় না আসতে দেখি ,সাদা যা তো এটাকে দিয়ে আয় আর মামাকে বলে আসবি ছেলে দেখতে । এদিকে অনন্যা আপু তো চাচির কথা শুনে ফ্লোরে হাত-পা বিছিয়ে কান্না শুরু সে কিছুতেই যাবে এখান থেকে ।
পরে সাদা ভাইয়া টানতে টানতে নিয়ে গেছে এখানে থেকে। কত বড় মাপের বেহায়া এই অনন্যা আপু । বলেই হাসিতে ফেটে পড়ে।

চলবে……………

❎ কপি করা নিষেধ ❎

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here