ভ্যাম্পায়ার_কুইন# #সিজন_2# পর্বঃ৪৭

#ভ্যাম্পায়ার_কুইন#
#সিজন_2#
পর্বঃ৪৭
.
.
লেখকঃহৃদয় বাপ্পী
.
.
আমি আমার শরীরে আবার ফিরে আসলাম। যদিও আমি এতোক্ষন আমার শরীরের মধ্যেই ছিলাম। তবে আমার চেতনা আমার ব্রেইনের মধ্যে ছিলো। যেটার কারনে আমার শরীর এতোক্ষন আমার নিয়ন্ত্রনের বাইরে ছিলো। তবে আমার চেতনা আমার ব্রেইন থেকে বের হওয়ার পরে আমি আবার আমার শরীরের নিয়ন্ত্রন ফিরে পেয়েছি। যদিও আমার শরীরের অবস্থা অনেক বাজেহাল ছিলো। আমার মাথা পিছন থেকে ফেটে গেছে, যেটা দিয়ে অনেক রক্তক্ষরন হয়েছে। তবে ড্রাকুলা আমাকে হিল করে দিয়েছিলো, যার কারনে আমার বেশী ক্ষতি হয় নি। তবে একটা জিনিস হয়ে গেছে যতক্ষন আমি আমার ব্রেইনের মধ্যে ছিলাম। আমাকে মাটিতে ফেলার পর আমি নাকি বেহুস হয়ে গিয়েছিলাম। অবশ্য আমার চেতনা আমার ব্রেইনের মধ্যে থাকায় আমি এসবের কিছুই জানি না। এর মাঝে আমি বেহুস হয়ে যাওয়ার পরে ড্রাকুলা আমাকে মারতে গিয়েছিলো আরো। আর তখন প্রিন্সেস এলিনা ড্রাকুলাকে আটকানোর চেষ্টা করে কিন্তু সেটা সভল হয় না। কারন ড্রাকুলা তার উপরে গ্রাভিটি স্পেল ব্যবহার করে। আর সেটার ফলে প্রিন্সেস কিছুই করতে পারে না। যার ফলে সে ড্রাকুলার প্রস্তাবে রাজি না হয়ে অন্য উপায় দেখে না। অবশ্য প্রিন্সেস মিথ্যে কথা বলে ড্রাকুলাকে ধোকা দিবে এটা হতে পারবে না। এজন্য আমার চোখের সামনে একটা ব্লাড কন্ট্রাক করলো যেটা। যেটায় একটা অদৃশ্য কাগজ চলে আসলো ড্রাকুলার হাতে। সেখানে প্রিন্সেসকে তার হাত কেটে কিছুটা রক্ত ফেলতে হলো। পৃথিবীতে সাক্ষরের ব্যবহার করা হতো। তবে ভ্যাম্পায়ার কিংবা অন্য মনস্টাররা ব্লাড কন্ট্রাক ব্যবহার করে। যেটার রক্তের মাধ্যমে করতে হয়। এতে করে যে কোনো চুক্তি অমান্য করলে চুক্তিতে প্রদত্ত শাস্তি ভোগ করতে হবে। সে যেই হোক না কেনো।
।।।
।।।
আমি প্রিন্সেস এর শাস্তির সম্পর্কে জানি না। কিন্তু কন্ট্রাক সাইন করার সময় সেটা আমি দেখতে পারি নি। কারন কন্ট্রাকে কি লেখা সেটা তারা দুজনই দেখতে পারবে। যাইহোক প্রিন্সেস এর তিন ফোটা ব্লাড পরলো কাগজের উপরে। আর সাথে সাথে সেটা জ্বলতে লাগলো। আগুনে পোড়ার মতো পুড়তে লাগলো। কিন্তু কোনো ছায় হলো না। বরং আবারো অদৃশ্য হয়ে গেলো। আমি তাকিয়ে রইলাম সেদিকে। কিন্তু লাভ হলো না। কিছুটা আগে কি হয়েছে সেটা ড্রাকুলাই আমাকে তার টেলিপ্যাথিক ক্ষমতার মাধ্যমে বলেছে। সে শুধু অন্যের মনের কথা শুনতেই পারে না। বরং নিজেও মনে মনে অন্যের সাথে কথা বলতে পারে। জিনিসটা অসাধারন। তবে এরকম ক্ষমতা না থাকায় ভালো। কারন আমি ড্রাকুলাকে দেখেই বুঝতে পারছি তার লাইফে ফান বলতে কিছুই নেই। কারন সব কিছু সে আগেই বুঝে যায় কি হবে। তাই সে কোনো কিছুতে আগ্রহী হয় না। ব্লাড কন্ট্রাকের পরে প্রিন্সেস বেহুস হয়ে গেলো। ব্লাড কন্ট্রাক অনেক মারাত্মক একটা ম্যাজিক। এটার মাধ্যমে একজন তার ক্ষমতা আরেকজনের মধ্যেও ট্রান্সফার করতে পারে। তবে সেটা এক গোত্রের হতে হবে। আর এটা শুধু মনস্টার গোত্রদের উপরেই কাজ করে। আমি জানি না কি রকম কন্ট্রাক প্রিন্সেস এর সাথে ড্রাকুলা করেছে। তবে সেটা অনেক পাওয়ারফুল ছিলো সেটা প্রিন্সেস এর বেহুস হওয়া দেখেই বুঝতে পেরেছি। যাইহোক আমি তার বেহুস হওয়ার সময়েই তার পাশে গিয়ে তাকে ধরতে গিয়েছিলাম, কারন সে নিচে পরে যাচ্ছিলো। আমার কাছে আল্ট্রা স্পিড থাকায় বেশীক্ষন লাগলো না তার কাছে পৌছাতে। ড্রাকুলা কিছু আমাকে বলতে চেয়েছিলো। তবে আমি সেটা না শুনেই প্রিন্সেসকে কোলে নিতে গেলাম। কিন্তু সেটা করার পূর্বেই দূর থেকে আমার শরীরে বিশাল কারেন্ট এর শক লাগলো। যেটা প্রিন্সেস এর শরীর থেকে বের হয়েছিলো।
।।।
।।।
আমও চিন্তা করেছিলাম সে হয়তো নিচে পরে যাবে। কিন্তু সেটা হলো না। বরং সে হাটু সমান উচ্চতায় চিৎ হয়ে ভাসতে লাগলো। সে পুরো বেহুস হয়ে আছে সেটা আমি বুঝতে পারছি। কিন্তু এভাবে কাউকে হাওয়ায় উড়তে আমি কখনো দেখি নি। হয়তো গ্রাভিটি ম্যাজিক হবে ড্রাকুলার?
.
–কি হচ্ছে প্রিন্সেস এর সাথে? আপনি তাকে হাওয়ায় ভাসিয়ে রাখবেন সেটা আগে বললেই তো হতো।(আমি)
.
–আমি কিছু করছি না। বরং এটা তারই ক্ষমতা। সে নিজের গ্রাভিটি কন্ট্রোল এর মাধ্যমে হাওয়ায় ভাসছে। এবং তার নিজের ক্ষমতা দিয়েই তোমাকে শক দিয়েছে।(ড্রাকুলা)
.
–বুঝতে পারলাম না আপনার কথা?(আমি)
.
–সে তার কথা ভুলে যেনো না যায় এজন্য আমি তার সাথে একটা ব্লাড কন্ট্রাক করেছি। যেটার মধ্যে আমি অনেক সাংঘাতিক কিছু করেছি তার সাথে।(ড্রাকুলা)
.
–মানে কি? আপনি তাকে রানী বানাতে চেয়েছেন। তার সাথে সাংঘাতিক কিছু কেনো করবেন?(আমি)
.
–তাকে রানী বানাতে চেয়েছি এজন্যই সাংঘাতিক কিছু করেছি। এই দুনিয়ার মধ্যে আমার বর্তমান ক্ষমতা মনে হয় না কোনো ভ্যাম্পায়ার কোনো দিন অর্জন করতে পারবে। আর ভ্যাম্পায়ারদের মধ্যে সর্বোশক্তিমান হওয়াটা আমার ভালো লাগে না। তাই আমার কন্ট্রাকে আমি আমার অর্ধেক ক্ষমতা তাকে দিয়ে দিয়েছি। রিক্সের ব্যাপার হলো তাতে আমার ক্ষমতা একটুও কমবে না। বরং সে আমার ক্ষমতার অর্ধেক পেয়ে যাবে। তবে এখানে তার পক্ষ থেকেও অনেক কিছু দিতে হবে। তাছাড়া এই কন্ট্রাক কখনো পূরন হবে না।(ড্রাকুলা)
.
–সেটা তো আমিও জানি। ক্ষমতা ব্লাড কন্ট্রাকে দিতে চাইলে যে নিবে তাকে একই গোত্রের হতে হবে এবং সেটার জন্য যে নিবে তাকে সেই ক্ষমতার মূল্যবান কিছু ত্যাগ করতে হবে। তবে এই ব্লাড কন্ট্রাক এই দুনিয়ায় কেউই জানে না। যার ফলে আমার মনে হয় এটাই প্রথম ব্যবহার হয়েছে।(আমি)
.
–হ্যা আর প্রিন্সেস এর তরফ থেকে আমার শর্ত গুলোই তার জন্য আমার অর্ধেক ক্ষমতার সমান হয়ে যায়।(ড্রাকুলা)
.
–এতো কি শর্ত দিলেন তাকে? যে সেটা আপনার অর্ধেক ক্ষমতার সমান হয়ে গেলো?(আমি)
.
–প্রায় বিশটা আছে। তবে দুটো বলি, প্রথমত তাকে নতুন রাজ্যের জন্য পারফেক্ট রানী হতে হবে। সে রানীর কাজ থেকে পালিয়ে গেলে, তার ঘুমের মধ্যে তোমাকে হত্যা করে ফেলবে সে। দ্বিতীয়ত, যদি রাজ্যের প্রতি অলসতা দেখায় সে তাহলে তুমি চার পাঁচটা বিয়ে করবে। যেখানে তার জায়গা থাকবে না।(ড্রাকুলা)
.
–এটা কোনো কথা?(আমি)
.
–তার মনে সব সময় তোমার চিন্তায় থাকে। তাই আমি তোমাকেই আমার শর্তে ব্যবহার করেছি। শর্ত গুলো রিয়েল কাজের মতো কাজ করে।(ড্রাকুলা)
.
–আমি যদি কাউকেই বিয়ে না করার সিদ্ধান্ত নেই, আর সব রাতে সুরক্ষিত থাকি তাহলেও কি প্রিন্সেস এর শর্ত ভাঙলে সে জিনিস হবে।(আমি)
.
–হ্যা। এটা এবসুলেট। যে করেই হোক শর্ত ভাঙলে শর্ত অনুযায়ী কাজ হবে। সেটা তুমি চাও আর না চাও।(ড্রাকুলা)
.
–আপনি তো আমাকে অনেক বড় একটা সমস্যায় ফেলে দিলেন। এটা মোটেও সুবিধার নয়। তবে আমি বুঝতে পারছি না প্রিন্সেস এর কি হয়েছে এখন?(আমি)
.
–আমার অর্ধেক ক্ষমতা তার শরীরে তৈরী হচ্ছে, যেটা আমাদের ব্লাড কন্ট্রাকের মাধ্যমে হচ্ছে। আর তার শরীরের চেতনা এতো ক্ষমতা কন্ট্রোল করতে পারবে না একসাথে। এজন্য আপাতোতো সে বেহুস হয়ে আছে। তবে একটা আলাদা রকমের ম্যাজিক পাওয়ার তার শরীরকে এখন সুরক্ষিত রাখবে। এখন এখানে সয়ং ডেভিল কিং আসলেও প্রিন্সেসকে স্পর্শ করতে পারবে না সে।(ড্রাকুলা)
.
–ওয়াও। ব্যাপারটা অনেক বিষ্ময়কর। আচ্ছা একটা সত্য কথা বলবেন?(আমি)
.
–হ্যা বুঝতে পারছি কি বলবে তুমি, এটাই তো আমি মানুষের একটা রাজ্য বানানোর জন্য এতো উঠে পরে লেগেছি কেনো? আর সেটা নিজের হাতেই বানাচ্ছি না কেনো তাই তো?(ড্রাকুলা)
.
–হ্যা। এর আগেও একবার জিজ্ঞেস করেছিলাম আমি।(আমি)
.
–দেখো জ্যাল সব কিছু সহজ হয় না অর্জন করার জন্য। কিন্তু আমার জন্য সেটা অনেকটা সহজ হয়ে গেছে। এই ধরো আমি হাজার হাজার বছর জীবিত আছি, তাছাড়া আমার যে ক্ষমতা সেটা দিয়ে আমি সব কিছুই খুব সহজে অর্জন করতে পারি। কারো সাথে লড়তে চাইলে, তার মনের কথা শুনেই তাকে হারাতে পারি। এই সব ক্ষমতা থাকার ফলে দুনিয়ার সব কিছুই আমার বোরিং লাগা শুরু হয়। যার কারনে একটা সময় আমি বিরক্ত হয়ে পৃথিবীতে চলে যায়। যেখানে প্রথমে মানুষদের হত্যা করতাম। তাদের উপরে পরীক্ষা করতাম অনেক রকমের। কিন্তু পরে সেটাও বন্ধ করে আমি মানুষের মতোই জীবন শুরু করি। কিন্তু সেটাও সম্ভব হয় না। দুনিয়া ধ্বংস হলো। এবং আমি কয়েকটা ঝোকার এর সাথে লিম্বোতে আটকা পরে যায়। সেখান থেকে আবার নতুন দুনিয়াতে আসলেও আমি এখানেও আগের মতোই অনুভব করছি। পুরো দুনিয়ায় বোরিং। কারন এখানে যেটা আমি চাইবো সেটাই অর্জন করতে পারবো।
.
–তাহলে?(আমি)
.
–এজন্য আমি এবার নতুন একটা পদক্ষেপ নিয়েছি। যেরকম দাবা খেলায় কোর্টের সবচেয়ে মূল্যবান হলো রাজা, যেটায় আসল জিনিস। তাকে আটকাতে পারলেই পুরো গেম শেষ। তবে রাজার থেকেও মূল্যবান হলো যে গেমটা খেলছে। কারন সেই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে তার রাজা কি করবে। আর রাজা মূল্যবান হলেও রানীর ক্ষমতা কোর্টের মধ্যে সবচেয়ে বেশীই থাকে, যেটা রাজাকে সব সময় সুরক্ষিত করে।(ড্রাকুলা)
.
–তো আপনি কি এই দুনিয়াকে দাবা খেলার মতো বানাতে চাচ্ছেন?(আমি)
.
–হ্যা। একদম সেরকমই। আমি একটা রাজ্য বানাতে চাচ্ছি যেখানে সর্বশক্তিমান রানী দাবার মতোই পুরো কোর্ট দখল করে রাখবে। আর সেভাবেই আমার বোরিং লাইফ কাটবে।(ড্রাকুলা)
.
–তো আপনি রাজা হতে পারতেন তো?(আমি)
.
–না আমি তো এখানে সেই লোক যে দাবা কোর্টের রাজা রানী এবং বাকিদের পদ নিদর্শন দিবো। আর তারা সেই পথে পা দিবে আমার কথা মতো। আর কোর্টের সর্বশক্তিমান পিচটায় আমি নির্বাচন করেছি, যে তার নিজের রাজা এবং বাকি সৈন্য একাই জোগাড় করতে পারবে। আমি আপাতোতো দর্শক হয়ে দেখতে থাকবো। (ড্রাকুলা)
.
–হ্যা। অনেক সুন্দর একটা বুদ্ধি।(আমি)
।।।
।।।
আমি ড্রাকুলার সাথে সহমত। কারন সে এই দুনিয়ার কেউ না। তার জন্ম হয় নি এখানে। এক কথা সে মারা গেছে। তাকে কেউ চিনে না। আগের দুনিয়ার কথা বললে সবাই তাকেই পাগল বলবে। সে যেহেতু এই দুনিয়ার না তার এই দুনিয়ার কোনো কিছু করাও ঠিক না। কিন্তু সে এখানে দাবা খেলতে যাচ্ছে। যেটা অনেকটা ইন্টারেস্টিং জিনিস। এখানে তার কিছু করতে হবে, বরং তার দেখানো পথে এই দুনিয়ার সবাই সব কাজ করবে। তাই তার বুদ্ধিটা আমার ভালো লাগছে। যদিও এটা পাগলের মতো লাগতো কিছুটা আগে আমাকে এটা বললে। কারন আমার ব্রেইনের মধ্যে আমার চেতনা ঢোকার পরে আমি জানতে পেরেছি আমিও এই দুনিয়ার না। যেটা আমাকেও এখন ভাবাচ্ছে, আমি এতো কিছু করছি এটা কি ঠিক হবে। আরো কি কিছু করবো, নাকি এখানেই দাড়িয়ে যাবো।
।।।।
।।।।
।।।।
চিন্তা ভাবনা আমি যা করছি সেটা হয়তো ড্রাকুলার কানে এতোক্ষন চলে গেছে। তাই সে কিছু বলছে না আর। বরং সে আমাকে প্রিন্সেস এর পাশেই দাড়িয়ে অপেক্ষা করতে বলে সে চলে গেলো। কোথায় গেলো সেটা আমাকে জানালো না। আমি মাটিতে বসে পরলাম। সামনে মাথা সমান উচ্চতায় ভাসছে প্রিন্সেস, যাকে অনেক মায়াবী মনে হচ্ছে। তাকে এখন এভাবে দেখে আমার রোমান্টিক হতে মন চাচ্ছে কিছুটা। কিন্তু তার কাছে যেতে পারবো না এটায় সমস্যা। আমার আগের স্মৃতি আসার ফলে আমি এখন জানি ভালোবাসা জিনিসটা কি। আর সে সম্পর্কে আমার খুব ভালোই ধারনা আছে। আর সেটাও বুঝতে পারছি প্রিন্সেস তার রানীর কাজে অলসতা করলে একটা সময় আমি লুচু বয় হয়ে যাবো। যেটার কারনে পাঁচটা স্ত্রী থাকবে আমার। তবে আমি চাইবো না তেমন কিছু হোক। অবশ্য এখন রোমান্স নিয়ে কল্পনা করা শুরু করায় অনেক কিছু আমার চিন্তায় আসছে। বিশেষ করে আমি আমার ভবিষ্যত পাঁচ স্ত্রীকে কল্পনা করতে লাগলাম। যেহেতু প্রিন্সেস এলিনা আমার স্ত্রী হবে না। তাই কার কার সম্ভবনা আছে? ভাবতে ভাবতে কয়েকজনের নাম মনে আসলো, প্রিন্সেস এলিহা, লুসি, লুসানা, রানী আফরিয়েল। যদিও আমি পঞ্চম কাউকে পেলাম না ভেবে, তারপরও ভাবতে লাগলাম। অনেকক্ষন ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তা করতে করতে আমার মাথায় আরেকটা জিনিস আসলো। সেটা হলো এখন আপাতোতো কেউ নেই এখানে। আর আমাকে প্রিন্সেস এর পাশেই থাকতে হবে, তাই এই সুযোগে আমি বাকি তিন সত্ত্বার শরীর ব্যবহার করার চেষ্টা করি।
।।।
।।।
।।।
আমি যোগব্যায়াম করার মতো আসন নিয়ে বসলাম। এবার মনোযোগ দিতে শুরু করলাম। আমি জানি আমি প্রথমেই পারবো না৷ আমাকে চেষ্টা করতে হবে। আমার ব্রেইন আমাকে বলেছিলো আমার ব্রেইনের লাইব্রেরীতে পৌছানোর জন্য আমাকে গভীর চিন্তা করতে হবে। প্রথম বার যদি আমি নিজে সেখানে যেতে পারি, তাহলে আমার মানুষের শরীর নিয়েই সেখানে পৌছে যাবো। শুধু আমাকে চিন্তা করতে হবে।।।
।।।
।।।
।।।
পুরো আধা ঘন্টা গভীর চিন্তা পরে আমি আমার চেতনাকে আমার লাইব্রেরীতে পৌছাতে সক্ষম হয়েছি। যদিও অনেক বিরক্তকর চেষ্টা ছিলো। কেউ শুধু শুধু মাটির উপরে বসে চিন্তা করবে না। আমি কি চিন্তা করেছি এতোক্ষন সেটাও ভুলে গেছি এখন। আমার সামনে আগের মতো সব কিছুই আবারো দেখতে পেলাম। এবার আর আমি আগের মতো আসি নি। এবার নরতে পারছি। লাফাতে পারছি। অনেক মারাত্মক একটা জায়গা। মৃত শরীর দেখে যারা ভয় পায় তারা কখনো এখানে আসতে চাইবে না। কিন্তু আমার ক্ষেত্রে সেটা বিপরীত। আমি ভয় পাচ্ছি না, কারন এরা আমার সত্ত্বার শরীর। তাদের ক্ষমতা আমার মধ্যেই আছে। এখন যদি আমি একটা সত্ত্বার শরীর নির্ধারন করি, তাহলে আমি পুরো আলাদা গোত্রে প্রানীতে ট্রান্সফর্ম হয়ে যেতে পারবো, যেটা আমাকে অনেকটা আলাদা করবে। যদিও মানুষের শরীরটাই আমার ভালো লাগে, তারপরও লড়াই এর সময় এইগুলোও আমাকে অনেক ভালো করে সাহায্য করবে। আমি হেটে সামনে গেলাম। এবং এন্জেল এর সত্ত্বার হাত ধরলাম যেটা ধরার পর মনে হলো আমও সেটার মধ্যে ঢুকে গেলাম। এরকম কোনো ফিলিংস আমি আগে বোধ করি নি। এটাই হয়তো প্রথম হলো। আমি চোখ খোলার পর নিজেকে সেই স্থানে বসে থাকায় পেলাম। নিজের হাতের দিকে তাকিয়ে পার্থক্য বুঝতে পারলাম। আমার শরীরের কালার অনেকটা সাদা হয়ে গেছে। এন্জেলরা দেখতে অনেক সুন্দর এবং ফর্সা হয়। হয়তো আমার চেহারার লুক সেরকমই হয়ে গেছে। আমি জানি না, তবে সবচেয়ে আশ্চর্যের ব্যাপার হলো আমার পিঠে ডান পাশে ছয়টা বিশাল সাদা রয়েছে। যেটা একদম সত্যিই আমার সাইজের তিনগুন বড়ো। যদিও আমি সেগুলো দেখে অনেকটা খুশি, কিন্তু একসাইডে ছয়টা ডানা সেটা মোটেও ভালো দেখাচ্ছে না।
।।।।
।।।
।।

(((চলবে)))

।।
।।।
।।।।
অপেক্ষা করুন পরবর্তী পার্টের জন্য। কেমন হলো জানাবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here