ভ্যাম্পায়ার_কুইন# #সিজন_2# পর্বঃ৫৩ .

#ভ্যাম্পায়ার_কুইন#
#সিজন_2#
পর্বঃ৫৩
.
.
লেখকঃহৃদয় বাপ্পী
.
.
আমাকে এবং হ্যারিকে সন্দেহ এর বশে প্যালেসের মধ্যে নিয়ে যাচ্ছে। আমি এর আগে প্যালেসে এতো মিলিটারী অফিসার লক্ষ করি নি, যতটা না আজ দেখতে পাচ্ছি। মনে হচ্ছে পরিস্থিতি আমার আগেই তারা জানতে পেরেছে। যাইহোক আমি পরিস্থিতি নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছি না। বরং চিন্তা হচ্ছে পরিস্থিতি সামাল দিবো কিভাবে সেটা নিয়ে। আপাতোতো আগের দুনিয়া থেকে যারা এসেছে সবাই একটা রাজা কিংবা রানী সিলেক্ট করে নতুন একটা রাজ্য তৈরী করছে, যেটার মাধ্যমে তারা এই দুনিয়াতে তাদের সময় কাটাবে। অবশ্য ড্রাকুলা/থর এবং লোকির মতো আমি ও আগের দুনিয়ার। মানে আমরা এই চারজন আপাতোতো এই দুনিয়াতে জন্ম নেই। এই দুনিয়াতে থর ড্রাকুলা এবং লোকির জন্ম হয় নি। তবে আমার ক্ষেত্রে ব্যাপারটা আলাদা। আমি এই দুনিয়াতে জন্ম না নিলেও আমার সত্ত্বাগুলোর মাঝে সবচেয়ে দুর্বল সত্ত্বা একটা মৃত শরীরকে নিজের করেছে, যার জন্য আমি এই দুনিয়াতে জীবন পেয়েছি। অবশ্য আমার সাথে ছোট থেকে অনেক কিছু হয়েছে, যেটা সঠিক ভাবে বলতে গেলে আমার সাথে হয় নি। এই শরীর প্রথমে যার ছিলো তাকে তার শহরের মানুষেরা গোপনে হত্যা করে তার মায়ের উপরে প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য। আর সেই সময়ে আমার মানুষ সত্ত্বা এই শরীরকে নিজের করে নেই। জানি না এটাকে কি বলবো। তবে আমি আপাতোতো বলবো আমার জন্ম হয়েছে এই দুনিয়ায় অনেক আলাদা ভাবে। যদিও আমি বাকি তিনজনের মতো ভাবছি না। তারপরও তাদের কাজ আমার ভালো লেগেছে। বিশেষ করে ড্রাকুলার চিন্তা ভাবনা। থরের থেকে শুনেছি ড্রাকুলাকে দাবাতে হারানো কখনোই সম্ভব নয়। কারন সে অন্যের মনের কথা শুনতে পারে। আর সেই ড্রাকুলা সমস্ত দাবা খেলায় বিরক্ত হয়ে এখন দুনিয়াতেই দাবা খেলতে চাচ্ছে। অবশ্য তার সাথে লড়াই এ আমার অনেক লজ্জাজনক হার হয়েছে, যেটা আমি এখনো মনে মনে মেনে নিতে পারছি না। যদিও তার সামনে আমার এসব চিন্তা ভাবনা থাকে না। আমি কোনো নেগেটিভ কিছু ভাবি না তার কাছে, নাহলে আবার সে সেটা শুনে ফেলবে।
।।।
।।।
মোটকথা ড্রাকুলা চাচ্ছে এই দুনিয়ায় সে দাবা খেলবে। লোকিও একটা রাজ্য বানিয়ে ফেলেছে,যেটা আক্রমন করছে ইগড্রোলিয়াকে। আর থরও সেটাই করছে হয়তো। তিনজনই একটা দাবার রাজ্য তৈরী করেছে, যেটাকে তারা নিয়ন্ত্রন করছে। হ্যা খারাপ না বিষয়টা। তবে এর মাঝে আবার রয়েছে ডেভিল কিং। সে কি চিন্তা করছে সেটা ভাবাও অনেক কষ্টকর। আপাতোতো আমাকে সামনের দিকে ফোকাস থাকতে হবে।
.
–প্রথমত বলবো এভাবে আমাদের হিরোর নাম নেওয়া ঠিক না। এবং দ্বিতীয়ত এন্জেলরা কখনো মিথ্যা বলে না।(আফরিয়েল)
।।।
।।।
আমি আর হ্যারি একটা ক্যাবিনে বসে ছিলাম। যেখানে বসে আমি চিন্তা করছিলাম। এখনো এন্জেল ফর্মেই আছি আমি। আর তখনি রানী আফরিয়েল চলো আসলো টেলিপোর্ট হয়ে এখানে, যেটা অনেক আজব লাগলো আমার কাছে। কারন গভীর চিন্তার সময় একটা সুন্দরী আসলো সমস্যায় হয়।
.
–হিরো টিরোর কথা বাদ দিন। আগে বলুন আপনার হিরো কিভাবে হওয়া যাবে?(আমি এগিয়ে গিয়ে রানী হাত ধরে বলতে লাগলাম)
.
–রুমটা সিকিউর আছে, তুমি তোমার মানুষ ফর্মে আসতে পারো, এভাবে আমি অনেক আনকমফর্ট ফিল করি।(রানী পুরো লজ্জায় লাল হয়ে)
.
–এটা ঠিক না।(বলেই আমি মানুষ ফর্মে চলে আসলাম)
.
–হ্যা এবার ঠিক আছে।(বলেই রানী আমাকে জড়িয়ে ধরলো)
।।।
।।।
আমাকে জরিয়ে ধরা দেখে হ্যারি ঔদিক ঘুরলো,
.
–আমি কিছু দেখি নি।(হ্যারি)
.
–এটা কি করছেন ছারুন ছারুন।(আমি ধাক্কা দিয়ে ছারিয়ে দিলাম)
.
–কেনো এন্জেল ফর্মে তো ভালোই আমার কাছে আসলে, এখন কি হলো?(রানী)
.
–ঔটা আমি থাকি না সম্পূর্ন। আমার পারশোনালটি চেন্জ হয়ে যায়।(আমি)
.
–আচ্ছা ঠিক আছে। তো সত্য বলো প্যালেসে ঢোকার জন্য মাইকেলের পরিচয় ব্যবহার করলে কেনো?(রানী)
.
–আমার উপরে আবারো মাইন্ড কনট্রোল স্পেল ব্যবহার করছেন।(আমি)
.
–হ্যা এটা তো তোমার এন্জেল ফর্মে কাজ হবে না। তাই এই ফর্মেই প্রয়োজন আমার।(রানী)
.
–ঠিক আছে প্রশ্ন করেন। আমি উত্তর দিচ্ছি।(আমি)
.
–তো, কি প্লানিং করে প্যালেসে প্রবেশ করেছো? প্যালেসের কেউ সিওর না তুমি জ্যাক। তারপরও তোমার মতো দেখতে কাউকে পেলেও তারা এরেস্ট করবে। যেহেতু একজন এন্জেল ভেবেছে তারা সবাই তোমাকে, তাই ব্যাপারটা আমার সাথে তারা যোগাযোগ করে সিওর হয়ে নিয়েছে। তো তোমার চিন্তা ভাবনা কি এখন? রাজ্যের সবচেয়ে বড় আসামীর খাতায় নাম হয়েছে তোমার।(রানী)
.
–আমার এখানে আসা তেমন কোনো কারন নেই, শুধু আমার দুই বন্ধুকে এখান থেকে নিতে এসেছিলাম। তবে আপাতোতো কিছু একটার কারনে আমার চিন্তা পাল্টে গেলো।(আমি)
.
–চিন্তা পাল্টে গেলো মানে?(রানী)
.
–একটা সময় ছিলো। যখন অন্যের রাজ্যে গেলে একটা সম্মান পাওয়া যেতো। তবে সেটা এখন আর হচ্ছে না। এখন তো নিজের রাজ্যেই আমার সম্মান নেই, আর বিশেষ করে আমি রাজ্যের আসামী কিছু না করার কারনেই। তাই ভাবছি একটা নতুন রাজ্যই তৈরী করবো।(আমি)
.
–একটা রাজ্য? হাসাচ্ছো তুমি? তোমাকে তো সুযোগ দিয়েছিই, আমাকে বিয়ে করো। এবং পুরো এ্যারসাক তখন তোমার হয়ে যাবে।(রানী)
.
–কোনো জিনিস সহজে পেয়ে যাওয়ার মাঝে কোনো রকমের মজা নেই। যেটাকে সাধনা করে পেতে হয়, তাতেই মজা।(আমি)
.
–তাহলে তুমি বলতে চাচ্ছো তুমি একা একটা রাজ্য তৈরী করবে? তুমি আমার জেনারেল এর সাথে লড়তে গিয়ে নাহয় তাকে হারিয়েছো, তবে এখানে পুরো একটা নতুন রাজ্যের কথা বলা হচ্ছে। সেটা কিভাবে তৈরী করবে?(রানী)
.
— চারমুস খেলেছেন তো ঠিকই?(চারমুস এমন একটা খেলা যেটা অনেকটা দাবার মতো। এই নতুন দুনিয়াতে সরাসরি দাবা নামে কোনো গেমস নেই, তবে দাবার মতো একটা খেলা আছে, যেটাকে চারমুস বলে)
.
–হ্যা।(রানী)
.
–আমার চিন্তা ভাবনা সেরকমই। অবশ্য এই ধারনা দেওয়ার জন্য আমি একজনকে ধন্যবাদ দিবো। চারমুসের মতোই কয়েকটা টুকরো জোগাড় করলেই একটা রাজ্য হয়ে যাবে। রাজ্য বানানো ঠিক এতোটা সহজ।(আমি)
.
–বুঝলাম না তোমার কথা।(রানী)
.
–বুঝবেন। এক সপ্তাহের মধ্যে ইগড্রোলিয়া এবং হিমরারের মাঝখানে নতুন একটা রাজ্য তৈরী হবে। তখন বুঝতে পারবেন।(আমি)
.
–আমি দুঃখিত তবে আমাকে এখানে পাঠানো হয়েছিলো তোমাকে সাথে করে এ্যারসাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য, প্যালেসে রাজা কোনো এন্জেলকে রাখতে চাইছিলো না এজন্য। কিন্তু এখন তোমার কথা শুনে মনে হচ্ছে না তোমাকে মুক্ত ভাবে ঘুরতে দেওয়া ঠিক হবে।(রানী)
.
–এটা কিরকম কথা?(আমি)
.
–মনে রেখো তোমার কাছে রয়েছে গডহ্যান্ড ক্ষমতা। যার কাছে এই ক্ষমতা থাকবে সে এই দুনিয়াকে কনট্রোল করতে পারবে নিজের ইচ্ছায়, অবশ্য এটা আমাদের ইতিহাস অনুযায়ী। তবে সেটার সময় এখনো হয় নি। ডেভিল কিং এর টার্গেট আপাতোতো এ্যারসাক থেকে সরেছে, তবে আমি যেটুকু জানি ডেভিল কিং তোমার গডহ্যান্ডের ক্ষমতাকে নিজের করার সুযোগে আছে। সেটা হলে এই পুরো দুনিয়া তার হাতে চলে যাবে।(রানী)
.
–ডেভিল কিং এই করবে, সেই করবে। এইসব শুনতে শুনতে আমার কান শেষ হয়ে গেলো। ডেভিল কিং হয়তো জানে না দুনিয়াতে ডেভিল কিং জন্ম নিলে, সেই সাথে একটা এন্জেল কিং জন্ম নেই, একটা ডিম্যান কিং জন্ম নেই, একটা ভ্যাম্পায়ার কিং জন্ম নেই, এবং একটা মানুষ কিং জন্ম নেই। আমি কারো গোলাম না।(আমি)
.
–আমি শুধু বলছি তুমি এ্যারসাকে চলো আমার সাথে। পুরো এ্যারসাক তোমার হবে। তুমি হবে সেটার রাজা।(রানী)
.
–এই মুহুর্তে আমি সব গুলো রাজ্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করলাম। ইগড্রোলিয়া, হিমরার, এ্যালকোর্ট, নতুন আন্ডারওয়ার্ল্ড, এ্যারসাক এবং কিছুদিনের মধ্যে তৈরী সকল রাজ্যের বিরুদ্ধে। আমি অনেক শুনেছি অন্যের কথা। এখন সময় হয়েছে, সবাইকে আমার কথা শোনাতে।(আমি)
।।।
।।।
আমার মাথা অনেকটা গরম হয়ে গেছে। গরম হওয়ার কথা, যে একটা সময় রাজা ছিলো, কতক্ষন এসব ঝামেলার মধ্যে সে থাকবে, তাছাড়াও একটা বিষয় আছে যেটা আমাকে আরো রাগাচ্ছে। সেটা হলো ডেভিল কিং। আমার শরীর জ্বলে যায় তার নামটা একবার শুনলেই। কারন সে আমার জায়গা নিয়ে বসে আছে। আরসাক নামটা এতোদিন ঠিক ছিলো। কিন্তু আজকে সে সেটার নাম চেন্জ করে আন্ডারওয়ার্ল্ড করেছে, আমার মনে হচ্ছে আমাকে সিংহাসন থেকে সরিয়ে সে বসেছে সিংহাসনে। তাই ব্যাপারটা আমারও ভালো লাগছে না। রাজার কাজ আমার ভালো লাগে না। তবে যদি এমন একজন হওয়া যায় যে সকল রাজাকেই কনট্রোল করে তাহলে কেমন হতো? হ্যা এটাই আমার ডেসটিনি। সাধারন থাকার সময় অনেকটা শেষ হয়ে গেছে।
।।।
।।।
রানী তার জোর খাটানোর চেষ্টা করতে চাচ্ছে এখন। সে তার হাতে আবারো সাদা ম্যাজিকাল দড়ি নিয়ে দাড়ালো। আমিও সময় নষ্ট করলাম না। এমনিতেই আমি এই ফর্মে এসে অনেক সময় নষ্ট করেছি। আমি এতোক্ষন চিন্তায় ছিলাম। নাহলে অনেক কিছু করতে পারতাম। যাইহোক দুনিয়াকে আসল ক্ষমতা দেখানোর সময় প্রায় হয়েই গেছে।
।।।
।।।
আমি আমার এন্জেল ফর্মে চলে এসেছি। যার কারনে পিছন থেকে ছয়টা ডানা বের হলো আবারো একপাশে। ডানাগুলো আফরিয়েল এর গুলোর থেকে অনেকটা বিশাল। তবে আমি সময় নষ্ট না করে সোজা ছয়টা ডানার থেকে তিনটা ডানাকে জোরে টান দিয়ে পিঠ থেকে বের করে ফেললাম। যেটার কারনে পিঠ থেকে ব্লাড বের হতে শুরু করলো। তবে ব্লাডগুলো মাটিতে পরার পূর্বেই উধাও হতে লাগলো। আমি ডানা তিনটাকে আমার বাম পাশে কাধে ঢুকিয়ে দিলাম অনেক জোরে, যেটা ভিতরে ঢুকে গেলো। এবং আমার দুইপাশে তিনটা তিনটা মোট ছয়টা ডানা হয়ে গেলো। এবার ডানা তিনটার আকার আরো বারতে লাগলো। যেটা এই পুরো রুমের দেওয়াল ভেঙে দিলো। আমি ডানা পরীক্ষা করার জন্য ঝাপটা দিতে চাইলাম। তবে আশেপাশের দেওয়াল ভেঙে গেলো তাতে। মনে হচ্ছে না সেটার জন্য এই জায়গা হবে। তাই এখান থেকে বের হতে হবে। দেরী করলাম না আর। হ্যারিকে সোজা টেলিপোর্ট করে দিলাম যেখানে যাওয়ার চিন্তা করেছিলাম সেখানে, মূলত তাকে পাঠিয়েছি লুসি এবং লুসানার কাছে। আর আমি নিজে টেলিপোর্ট হয়ে গেলাম। আমি এখন কারো ম্যাজিক পাওয়ার অনেক দূর থেকে অনুভব করতে পারি, অবশ্য সেটাকে দেখতে পারি আমার মানুষ ফর্মে। তবে ড্রাগনের সেই ক্ষমতা মানুষ ফর্ম ছাড়া কাজ করে না। তবে এন্জেল ফর্মে আমি কারো ম্যাজিক পাওয়ার অনেক দূর থেকে অনুভব করতে পারি, এবং সেই ম্যাজিক পাওয়ার অনুভব করে সেখানে টেলিপোর্ট হতে বা কাউকে টেলিপোর্ট করতে পারি। সাধারন টেলিপোর্টেশন স্পেলে ব্যবহারকারীকে প্রথমে সেই স্থানে একবার যেতে হবে যেখানে সে টেলিপোর্ট হতে চাই, তবে আমার টেলিপোর্টেশন এর এই ধাপে আমি কারো ম্যাজিক পাওয়ার অনুভব করে সেখানে টেলিপোর্ট হতে পারবো। এটা হাতে গোনা কয়েকজনই পারে, তবে এটার ব্যবহার খুব সীমিত দেখা যায়। কারন অনেক ম্যাজিক পাওয়ারের প্রয়োজন হয় এই স্পেলটার কারনে। অবশ্য আমার এন্জেল ফর্মে ম্যাজিক পাওয়ারের কোনো অভাব নেই। আমি অসংখ্যা পরিমান ম্যাজিক পাওয়ার অনুভব করতে পারছি এই ফর্মে। আমাকে নিজের মতো ব্যবহার করতে হবে। আমার ব্যবহার আজকে আজব হয়ে গেছে সেটা বুঝতে পারছি আমি। হয়তো বেশী সত্ত্বার শরীর ব্যবহার করার ফলে তাদের চেতনা আমাকে সমস্যা দিচ্ছে। সেটার জন্য আমার রেস্ট করার দরকার। কিন্তু তার পূর্বে আমাকে আরো কিছু করতে হবে। আমি যেটা রানীকে বললাম, সেটা আমাকে করতে হবে এখন।
।।।।
।।।।
আমি বাইরে টেলিপোর্ট হওয়ার পরে ডানা দিয়ে উড়তে লাগলাম। আমার ছয়টা ডানা পুরো মেলে দিলাম। যেগুলো আকাশে বিশাল আকার ধারন করছে আস্তে আস্তে। হয়তো কেউ এরকম ক্ষমতা পূর্বে দেখি নি যেটা আমি দেখাতে চাচ্ছি এদের। আমার ডানাগুলো পুরো প্যালেস যত পুরো ততবড় আকার ধারন করলো আমার পিঠ থেকে। এবং সেগুলোতে সূর্যের আলো বন্ধ হয়ে গেলো। পুরো প্যালেসের গার্ডদের চোখ এখন আমার দিকে। শুধু সেটা নয়, সেই সাথে আমার সকল মিলিটারি অফিসার, জেনারেল এবং রাজা নিজেও এটা দেখার জন্য বাইরে চলে এসেছে, কেউ আপাতোতো আমার উপরে আক্রমন করছে না। আমি আমার ডানা গুলো আবার ছোট করে নিলাম। এবং উড়ে সোজা রাজার কাছে চলে গেলাম। রাজার এলিট গার্ড এগারো জন রাজার সুরক্ষার জন্য এগিয়ে আসে, যাদের ছয়জন আমার সাথে একসাথে হামলা করে। যেহেতু আমি প্যালেসের মধ্যে একটা ভাংচুর করেছি আমার ডানা দিয়ে, তাই তারা এখানে আমাকে আসামী দেখছে, আর তাছাড়া আমি এটুকু সিওর এতোক্ষন আমি যে মাইকেল না জ্যাক সেটা ঠিকই রানী আফরিয়েল রাজাকে বলে দিয়েছে। আর তাদের এলিট গার্ডগুলো অনেক শক্তিশালী। আমার মনে হয় না তাদের নক করলে আর কেউ কিছু বলার সাহস পাবে এখানে। আমি হাওয়ার মধ্যেই ছিলাম। আর ছয়জন আমার উপরে ছয়টা তলোয়ার নিয়ে আল্ট্রা স্পিডে ঝাপিয়ে পরছিলো। যেটা মানুষ ফর্মে থাকে এরানো আমার পক্ষে অসম্ভব ছিলো। তবে এখন কোনো চিন্তায় করতে হবে।
।।।
।।।
আমি আমার ডান হাত দিয়ে এলিট গার্ডের মধ্য থেকে সোজা একজনের মুখ ধরে ফেললাম। এবং তাকে সোজা বাকি ছয়জনের দিকে ছুড়ে মারলাম। যারা ছয়জনই প্যালেসের ভিতরে কয়েকফ্লোর নিচে ভেঙে গিয়ে পরলো। আমার এই কাজে বাকি সবাই অনেকটা ভয় পেয়ে গেলো।
.
–রানী আফরিয়েল এর সাথে আমার কথা হয়েছে, সে বলেছিলো এর আগে গডহ্যান্ডের ব্যাপারে, যে গডহ্যান্ড ব্যবহার করবে সে প্রথমে যে গোত্রেরই থাকুক না কেনো, এরপর সে সেই গোত্রের সাথে এন্জেলে ট্রান্সফর্ম হতে পারবে। তবে সেটা এতো শক্তিশালী আমি আমি ভাবি নি।(রাজা)
.
–ইগড্রোলিয়ার রাজা। আপনার উপরে কিছুদিন পূর্বেও আমার অনেক ক্ষোপ ছিলো। শুধু সেই না আপনাকে হত্যার কল্পনাও ছিলো আমার। তবে সেটা হঠাৎ বলদে যায়। জানি না কেনো তবে রোজই হাজার চিন্তা আমার মাথায় আসে। আর সে অনুযায়ী কাজ করা অনেক কষ্টকর। তবে আজকে সুন্দর একটা চিন্তা করেছি।(আমি)
.
–কিরকম চিন্তা?(রাজা)
.
–ইগড্রোলিয়ার উপরে এখন সব দিক দিয়ে বিপদ। শুধু ইগড্রোলিয়া না। এখন সকল রাজ্যের উপরেই বিপদ। কারন সবাই একে অপরের সাথে যুদ্ধে যেতে যাচ্ছে। আর আমি কিছু রাজার মনের ইচ্ছার কারনে যুদ্ধে পা দিতে রাজি নয়। বরং নিজেরই মন চাচ্ছে যুদ্ধ করতে।(আমি)
.
–কি বলতে চাচ্ছো বুঝতে পারছি না।(রাজা)
.
–কিং অফ ইগড্রোলিয়া। আমি আপনাকে জানাচ্ছি আজ থেকে এক সপ্তাহের মধ্যে আপনার উপরে আমার রাজ্য থেকে হামলা হবে।(আমি)
.
–রাজ্য, তোমার রাজ্য। মজা করছো নিশ্চয় আমার সাথে।(রাজা)
.
–হ্যা মজার মতোই। আমি জ্যাক, এবং এটা আজকে নতুন একটা রাজ্যের উৎপত্তির খবর জানাচ্ছি ইগড্রোলিয়ার রাজাকে। নতুন রাজ্যটা চালাবে একজন রানী। যার নাম রানী এলিহা, যে ইগড্রোলিয়ার থার্ড প্রিন্সেস। এবং এই নতুন রাজ্যের রানীর মিনিস্টার হিসাবে আমি ইগড্রোলিয়ার রাজাকে জানাচ্ছি যে এক সপ্তাহের মধ্যে তার রাজ্য সহ সে যেনো রানী এলিহার কাছে আত্মসমর্পণ করে। নাহলে পুরো ক্যাপিটালকে এই দুনিয়ার বুক থেকে মুছে দিতে বাধ্য হবো আমি।(আমি)
।।।
।।।
আমি বিশাল বড় একটা লেকচার দিলাম। যেটা দেওয়ার দরকার হয়তো ছিলো না। তবে লেকচার দিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে মজা বেশী পাওয়া যায়। যায়হোক আপাতোতো রাজা সহ সকল লোকের অবস্থা সেখানে টাইট ছিলো আমার কথা শুনে। প্রথমত জানি না রানী আফরিয়েল আমার গডহ্যান্ডের ক্ষমতাকে তাদের কাছে কিভাবে বলেছে, কিন্তু ছয়টা এলিট গার্ডকে এক আঘাতে নক করে দেওয়া দেখতে পেয়ে তারা আর কিছু করার সাহস পায় নি। আপাতোতো তারা যুদ্ধের চিন্তায় আছে জায়েন্ট দের সাথে। এজন্য ভিতরের ব্যাপারটা সেভাবে দেখছে না। তবে শীঘ্রই সব কিছু সিরিয়াস ভাবে দেখবে তারা। আমি প্যালেসের ভিতরে আবার ঢুকলাম। হ্যারি ওর কাজ করেছে, লুসি এবং লুসানাকে সে মুক্ত করেছে, আমি জানতাম এটা ওদের ধরার জন্যই চাল ছিলো। বুদ্ধি করে প্যালেসে এনে ওদের বন্ধী করে রেখেছে। আমি ওদের তিনজনকে সাথে নিয়ে টেলিপোর্ট হলাম এবং প্রিন্সেস এলিহাকে টেলিপোর্ট করে সাথে নিলাম। তাকে ছাড়াও তো কিছু হবে না। ড্রাকুলা প্রিন্সেস এলিনাকে রানী বানাচ্ছে তার রাজ্যের। আমিও প্রিন্সেস এলিহাকে রানী বানিয়ে তার রাজ্যের সাথে লড়বো। তখন দেখতে পারবো কে বেশী শক্তিশালী
।।।।
।।।
।।

(((চলবে)))

।।
।।।
।।।।
আজকের লেখায় অনেক ভুল রয়েছে, যেটা একটু বুঝে পড়বেন। তারপরও না বুঝলে কমেন্ট করুন আমি বুঝিয়ে দিবো। একটু কাহিনী তারাতারি হয়ে গেছে কারন এখানে যা লিখেছি তা তিন পার্টে লেখার চিন্তা ছিলো, তবে ইন্টারেস্টিং করার জন্য একত্র করেছি, সেটা সুন্দর করে সাজানো হয় নি। তাই একটু বুঝে পড়বেন। ধন্যবাদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here